পড়া মনে রাখার সহজ কিছু কৌশল

সহজেই পড়া শিখে নিন

তাহলে পড়া মুখস্থ করার সহজ উপায় কি? সব কাজে কিছু কৌশল থাকে, সেগুলো জানা থাকলে অনেক কম পরিশ্রমে অসাধারণ ফলাফল পাওয়া যায়। কয়েকটি সহজ কৌশল মেনে চললেই এ জাতীয় উৎকট ঝামেলা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা ছাড়া জাতি কখনো উন্নতি করতে পারে না। যে জাতি যত বেশি উন্নত, সে জাতি তত বেশি শিক্ষিত। মাঝি ছাড়া যেমন নৌকা চলবে না তেমনি শিক্ষা ছাড়া দেশের উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে না। তাই নিজের জন্য, দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য আমাদের শিক্ষিত সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

কিন্তু পড়াশোনা করতে হলে কম-বেশী সবাই একটা সমস্যার সম্মুখীন হয়। আর সেটা হলো পড়া ভুলে যাওয়া। অনেকেই অনেক পড়েও পড়া মুখস্ত করতে পারে না, দুইদিন পড়েই ভুলে যায়। পড়া মনে না থাকা নিয়ে কম-বেশি হতাশায় ভুগে নাই এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া বেশ মুশকিল ব্যাপার।

তাহলে পড়া মুখস্থ করার সহজ উপায় কি? সব কাজে কিছু কৌশল থাকে, সেগুলো জানা থাকলে অনেক কম পরিশ্রমে অসাধারণ ফলাফল পাওয়া যায়। কয়েকটি সহজ কৌশল মেনে চললেই এ জাতীয় উৎকট ঝামেলা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন পড়া মনে রাখার কৌশলগুলো জেনে নেওয়া যাক।


পড়তে বসার আগে ১০ মিনিট হাঁটা

পড়ার টেবিলে বসার পূর্বে ১০ মিনিট হাঁটলে বা হালকা ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এতে পড়া মনে রাখতে বেশ সুবিধা হয়। ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, পড়ার পূর্বে ১০ মিনিট হাঁটলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা প্রায় ১০ শতাংশ পরিমাণ বেড়ে যায়। তাহলে একটু হাঁটার পরেই শুরু হোক পড়ালেখা।



পড়ার টেবিল, পড়ার রুম
যে সাবজেক্ট পড়বে সেই সাবজেক্টের বই ছাড়া অন্য বই টেবিলে রাখা যাবে না। পড়ার টেবিল দরজার পাশে, ড্রয়িং রুমে রাখবে না। মানুষ আসতে যাইতে ডিস্টার্ব হবে। আবার বারান্দা বা জানালার পাশেও পড়ার টেবিল রাখবে না। নচেৎ কিছুক্ষণ পর পর বাইরে তাকিয়ে নিজের অজান্তেই ১৫-২০ মিনিট নষ্ট করে ফেলবে কেননা আমাদের অবচেতন মনকে একবার প্রশয় দিয়ে দিলে তারা আমাদের কন্ট্রোল করা শুরু করে দেয়। তাই অবচেতন মনকে কোন প্রকার স্কোপ না দেয়াই ভালো। পড়ার রুমে কোন ইলেক্ট্রনিক্স যেমন টিভি, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন রাখা যাবে না। মোবাইল বন্ধ করে পাশের রুমে রেখে আসবা। পড়ার সময় ডিকশনারি ব্যবহার করা লাগলে প্রিন্ট করা ডিকশনারি ব্যবহার করবে।

পড়ার জন্য সঠিক সময় নির্বাচন করা
অনেকেরই ধারণা সারাদিন-সারারাত পড়লেই পড়া বেশি মনে থাকে। এটা নিতান্তই ভুল ধারণা। কারণ সবসময় আমাদের ব্রেইন একইভাবে কাজ করতে পারে না। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বিকালের পর আমাদের ব্রেইনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই বিকালের পরে অর্থাৎ সন্ধ্যায় বা রাতে পড়া বেশি কার্যকর হয়।



আগ্রহ নিয়ে খালি মাথায় পড়তে বসা
খেলা, মুভি দেখার জন্য আপনি যেমন আগ্রহ নিয়ে, জিতার আশা নিয়ে বসো। পড়ার সময়ও একইভাবে, নিজের ভিতর থেকে আগ্রহ নিয়ে, পড়া কঠিন, মনে থাকে না, বুঝি না- এইসব ভুলে, খালি মাথা নিয়ে বসতে হবে। কেননা পড়াশোনা আমাদের সবার কাছেই কম বেশি কঠিন বিষয় অথবা অপছন্দের বিষয়। আর এই কঠিনত্বকে যদি সহজ এবং মনে রাখার উপযোগী করতে হয় তাহলে আগ্রহ থাকাটা অবশ্যক। কেননা যে কাজে আগ্রহ থাকবে না সেই কাজ সঠিক ভাবে সম্পাদন হয় না। ঠিক তেমনি পড়াশোনাতেও আগ্রহ না এবং মাথায় রাজ্যের চিন্তা নিয়ে বসলে পড়া মুখস্ত হয় না। সেই জন্য ভোরে উঠে পড়তে বসলে মাথা ক্লিন থাকে এবং পড়া দ্রুত মাথায় ঢুকে।

বেশি বেশি পড়া ও অনুশীলন করা
আমাদের ব্রেইন ক্ষণস্থায়ী স্মৃতি গুলোকে তখনই দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে পরিণত করে যখন তা বারবার ইনপুট দেয়া হয়। বারবার ইনপুট দেয়ার ফলে ব্রেইনের স্মৃতি গঠনের স্থানে গাঠনিক পরিবর্তন হয় যা দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি তৈরীতে সাহায্য করে। তাই বেশি বেশি পড়া ও অনুশীলন করা পড়া মনে রাখার অন্যতম উপায়।

ছোট ছোট অংশে ভাগ করে পড়া
বড় কোন পড়া একত্রে পড়লে আমাদের মেমোরি সেটাকে ধরে রাখতে পারে না ফলশ্রুতি আমরা ভুলে যাই। এই বড় করে পড়ার ভুলটা অনেকেই করে থাকে যার ফলে এই সমস্যাটা সৃষ্টি হয়। কিন্তু ভেবে দেখ পড়াগুলোকে যদি ছোট ছোট অংশে ভাগ করে সেই অংশগুলোকে আগে মুখস্থ করে পরে সবটুকু জোড়া লাগানো হয় তাহলে দেখবে সেই পড়াটা বা সেই কলামটা তুমি সহজেই মুখস্থ করতে পারছো এবং স্থায়িত্ব বহুদিন। তাই সবটুকু একেবারে না পড়ে মুখস্থ করার চেয়ে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে মুখস্থ করার প্রক্রিয়াটাই বেশি শ্রেয়।

নোট রাখা
নোট নেওয়া বেশ কষ্টকর একটি প্রক্রিয়া। সাধারণত এটি কেউ শখ করে করতে চায় না। ক্লাসে যখন নোট নেওয়ার প্রয়োজন হয় তখন বেশিরভাগ মানুষ টিচার যা বলছেন সেগুলো কিছু না বুঝে ঘ্যাঁচঘ্যাঁচ করে খাতায় লিখে নেয়, সেটি করে আসলে তেমন লাভ হয় না। বাসায় এসে পুরো বিষয়টি বুঝে একদম নিজের মতো করে লিখে আবার একটি নোট তৈরি করা

গল্পে গল্পে শেখা
মানুষের একটি মজার বৈশিষ্ট্য হলো সে গল্প শুনতে অসম্ভব ভালবাসে! ক্লাসে স্যার অনেক কিছু পড়িয়েছেন সেগুলো এখন জিজ্ঞেস করলে কিছু বলতে পারবো না কিন্তু একদিন স্যার পড়ার ফাঁকে একটি গল্প বলেছেন সেটি এতদিন পরেও হুবহু মনে আছে! আমাদের বইগুলোয় ইতিহাস ভূগোল বিষয়গুলো খুব কাঠখোট্টাভাবে লেখা, একগাদা দিন-তারিখ-সংখ্যা দেওয়া থাকে সেগুলো মুখস্থ করতে নাভিঃশ্বাস ছুটে যায়। কিন্তু তুমি যখন বিষয়টিকে গল্পের মতো করে সাজিয়ে নেবে তখন সেটি অনেকদিন পরও খুব ভালোভাবে মনে থাকবে, মানুষ আর যাই কিছু ভুলুক, গল্প কোনদিন ভুলে না সহজে! এজন্যই অনেকরকম থিওরি-ফর্মুলা-তালিকা ইত্যাদি প্রথম অক্ষরগুলো নিয়ে ছোটখাটো ছড়া বানিয়ে ফেললে সেটি মনে রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।


কালারিং বা মার্কার পেন ব্যবহার করে দাগিয়ে পড়া
আমাদের মধ্যে অনেকেই মার্ক করে বা দাগিয়ে পড়ে। এটাও পড়া মনে রাখতে বেশ কার্যকর। মার্ক করার ফলে কোন শব্দ বা বাক্যের প্রতি আকর্ষণ ও আগ্রহ বেড়ে যায়। পাশাপাশি এর উপর ব্রেইনের ভিজ্যুয়ালিটি ইফেক্টও বেড়ে যায় যা পড়াকে মনে রাখতে সহায়তা করে।

লিখে লিখে বা ছবি এঁকে পড়ার অভ্যাস করা
কোন জিনিস পড়ার সাথে সাথে লিখলে বা ছবি আঁকলে পড়ার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। কারন নিউরো সায়েন্সের মতে, কিছু লিখলে বা ছবি আঁকলে ব্রেইনের অধিকাংশ জায়গা উদ্দীপিত হয় এবং ছবি বা লেখাটিকে স্থায়ী মেমরিতে রূপান্তরিত করে ফেলে। ফলে পড়াটি মস্তিষ্কতে দীর্ঘস্থায়ী হয়। 

যা পড়েছি তা অন্যকে শেখানো
পড়া মনে রাখার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই এ পদ্ধতিটি বেশ জনপ্রিয়। নিজে যা পড়েছি বা জেনেছি তা অন্যকে শেখানোর মাধ্যমে মস্তিষ্কে আরো ভালোভাবে গেঁথে যায়। তাছাড়া অন্যকে শেখানোর ফলে নিজের দক্ষতা প্রকাশ পায় এবং পড়াটি ভালভাবে আয়ত্ত হয়েছে কিনা তাও বুঝা যায়।

এই বিষয়গুলো ভাল ভাবে করতে পারলে পড়া মনে রাখতে আশাকরি কোন সমস্যা হবে না। আর একটা কথা- নিজের ইচ্ছা থাকতে হবে, কথায় আছে - " ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় " তাই যেকোন কিছু শিখতে হলে নিজের ইচ্ছাটাই সবচেয়ে বড় শক্তি।

No comments

0

সহজেই পড়া শিখে নিন

তাহলে পড়া মুখস্থ করার সহজ উপায় কি? সব কাজে কিছু কৌশল থাকে, সেগুলো জানা থাকলে অনেক কম পরিশ্রমে অসাধারণ ফলাফল পাওয়া যায়। কয়েকটি সহজ কৌশল মেনে চললেই এ জাতীয় উৎকট ঝামেলা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা ছাড়া জাতি কখনো উন্নতি করতে পারে না। যে জাতি যত বেশি উন্নত, সে জাতি তত বেশি শিক্ষিত। মাঝি ছাড়া যেমন নৌকা চলবে না তেমনি শিক্ষা ছাড়া দেশের উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে না। তাই নিজের জন্য, দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য আমাদের শিক্ষিত সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

কিন্তু পড়াশোনা করতে হলে কম-বেশী সবাই একটা সমস্যার সম্মুখীন হয়। আর সেটা হলো পড়া ভুলে যাওয়া। অনেকেই অনেক পড়েও পড়া মুখস্ত করতে পারে না, দুইদিন পড়েই ভুলে যায়। পড়া মনে না থাকা নিয়ে কম-বেশি হতাশায় ভুগে নাই এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া বেশ মুশকিল ব্যাপার।

তাহলে পড়া মুখস্থ করার সহজ উপায় কি? সব কাজে কিছু কৌশল থাকে, সেগুলো জানা থাকলে অনেক কম পরিশ্রমে অসাধারণ ফলাফল পাওয়া যায়। কয়েকটি সহজ কৌশল মেনে চললেই এ জাতীয় উৎকট ঝামেলা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন পড়া মনে রাখার কৌশলগুলো জেনে নেওয়া যাক।


পড়তে বসার আগে ১০ মিনিট হাঁটা

পড়ার টেবিলে বসার পূর্বে ১০ মিনিট হাঁটলে বা হালকা ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এতে পড়া মনে রাখতে বেশ সুবিধা হয়। ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, পড়ার পূর্বে ১০ মিনিট হাঁটলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা প্রায় ১০ শতাংশ পরিমাণ বেড়ে যায়। তাহলে একটু হাঁটার পরেই শুরু হোক পড়ালেখা।



পড়ার টেবিল, পড়ার রুম
যে সাবজেক্ট পড়বে সেই সাবজেক্টের বই ছাড়া অন্য বই টেবিলে রাখা যাবে না। পড়ার টেবিল দরজার পাশে, ড্রয়িং রুমে রাখবে না। মানুষ আসতে যাইতে ডিস্টার্ব হবে। আবার বারান্দা বা জানালার পাশেও পড়ার টেবিল রাখবে না। নচেৎ কিছুক্ষণ পর পর বাইরে তাকিয়ে নিজের অজান্তেই ১৫-২০ মিনিট নষ্ট করে ফেলবে কেননা আমাদের অবচেতন মনকে একবার প্রশয় দিয়ে দিলে তারা আমাদের কন্ট্রোল করা শুরু করে দেয়। তাই অবচেতন মনকে কোন প্রকার স্কোপ না দেয়াই ভালো। পড়ার রুমে কোন ইলেক্ট্রনিক্স যেমন টিভি, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন রাখা যাবে না। মোবাইল বন্ধ করে পাশের রুমে রেখে আসবা। পড়ার সময় ডিকশনারি ব্যবহার করা লাগলে প্রিন্ট করা ডিকশনারি ব্যবহার করবে।

পড়ার জন্য সঠিক সময় নির্বাচন করা
অনেকেরই ধারণা সারাদিন-সারারাত পড়লেই পড়া বেশি মনে থাকে। এটা নিতান্তই ভুল ধারণা। কারণ সবসময় আমাদের ব্রেইন একইভাবে কাজ করতে পারে না। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বিকালের পর আমাদের ব্রেইনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই বিকালের পরে অর্থাৎ সন্ধ্যায় বা রাতে পড়া বেশি কার্যকর হয়।



আগ্রহ নিয়ে খালি মাথায় পড়তে বসা
খেলা, মুভি দেখার জন্য আপনি যেমন আগ্রহ নিয়ে, জিতার আশা নিয়ে বসো। পড়ার সময়ও একইভাবে, নিজের ভিতর থেকে আগ্রহ নিয়ে, পড়া কঠিন, মনে থাকে না, বুঝি না- এইসব ভুলে, খালি মাথা নিয়ে বসতে হবে। কেননা পড়াশোনা আমাদের সবার কাছেই কম বেশি কঠিন বিষয় অথবা অপছন্দের বিষয়। আর এই কঠিনত্বকে যদি সহজ এবং মনে রাখার উপযোগী করতে হয় তাহলে আগ্রহ থাকাটা অবশ্যক। কেননা যে কাজে আগ্রহ থাকবে না সেই কাজ সঠিক ভাবে সম্পাদন হয় না। ঠিক তেমনি পড়াশোনাতেও আগ্রহ না এবং মাথায় রাজ্যের চিন্তা নিয়ে বসলে পড়া মুখস্ত হয় না। সেই জন্য ভোরে উঠে পড়তে বসলে মাথা ক্লিন থাকে এবং পড়া দ্রুত মাথায় ঢুকে।

বেশি বেশি পড়া ও অনুশীলন করা
আমাদের ব্রেইন ক্ষণস্থায়ী স্মৃতি গুলোকে তখনই দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে পরিণত করে যখন তা বারবার ইনপুট দেয়া হয়। বারবার ইনপুট দেয়ার ফলে ব্রেইনের স্মৃতি গঠনের স্থানে গাঠনিক পরিবর্তন হয় যা দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি তৈরীতে সাহায্য করে। তাই বেশি বেশি পড়া ও অনুশীলন করা পড়া মনে রাখার অন্যতম উপায়।

ছোট ছোট অংশে ভাগ করে পড়া
বড় কোন পড়া একত্রে পড়লে আমাদের মেমোরি সেটাকে ধরে রাখতে পারে না ফলশ্রুতি আমরা ভুলে যাই। এই বড় করে পড়ার ভুলটা অনেকেই করে থাকে যার ফলে এই সমস্যাটা সৃষ্টি হয়। কিন্তু ভেবে দেখ পড়াগুলোকে যদি ছোট ছোট অংশে ভাগ করে সেই অংশগুলোকে আগে মুখস্থ করে পরে সবটুকু জোড়া লাগানো হয় তাহলে দেখবে সেই পড়াটা বা সেই কলামটা তুমি সহজেই মুখস্থ করতে পারছো এবং স্থায়িত্ব বহুদিন। তাই সবটুকু একেবারে না পড়ে মুখস্থ করার চেয়ে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে মুখস্থ করার প্রক্রিয়াটাই বেশি শ্রেয়।

নোট রাখা
নোট নেওয়া বেশ কষ্টকর একটি প্রক্রিয়া। সাধারণত এটি কেউ শখ করে করতে চায় না। ক্লাসে যখন নোট নেওয়ার প্রয়োজন হয় তখন বেশিরভাগ মানুষ টিচার যা বলছেন সেগুলো কিছু না বুঝে ঘ্যাঁচঘ্যাঁচ করে খাতায় লিখে নেয়, সেটি করে আসলে তেমন লাভ হয় না। বাসায় এসে পুরো বিষয়টি বুঝে একদম নিজের মতো করে লিখে আবার একটি নোট তৈরি করা

গল্পে গল্পে শেখা
মানুষের একটি মজার বৈশিষ্ট্য হলো সে গল্প শুনতে অসম্ভব ভালবাসে! ক্লাসে স্যার অনেক কিছু পড়িয়েছেন সেগুলো এখন জিজ্ঞেস করলে কিছু বলতে পারবো না কিন্তু একদিন স্যার পড়ার ফাঁকে একটি গল্প বলেছেন সেটি এতদিন পরেও হুবহু মনে আছে! আমাদের বইগুলোয় ইতিহাস ভূগোল বিষয়গুলো খুব কাঠখোট্টাভাবে লেখা, একগাদা দিন-তারিখ-সংখ্যা দেওয়া থাকে সেগুলো মুখস্থ করতে নাভিঃশ্বাস ছুটে যায়। কিন্তু তুমি যখন বিষয়টিকে গল্পের মতো করে সাজিয়ে নেবে তখন সেটি অনেকদিন পরও খুব ভালোভাবে মনে থাকবে, মানুষ আর যাই কিছু ভুলুক, গল্প কোনদিন ভুলে না সহজে! এজন্যই অনেকরকম থিওরি-ফর্মুলা-তালিকা ইত্যাদি প্রথম অক্ষরগুলো নিয়ে ছোটখাটো ছড়া বানিয়ে ফেললে সেটি মনে রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।


কালারিং বা মার্কার পেন ব্যবহার করে দাগিয়ে পড়া
আমাদের মধ্যে অনেকেই মার্ক করে বা দাগিয়ে পড়ে। এটাও পড়া মনে রাখতে বেশ কার্যকর। মার্ক করার ফলে কোন শব্দ বা বাক্যের প্রতি আকর্ষণ ও আগ্রহ বেড়ে যায়। পাশাপাশি এর উপর ব্রেইনের ভিজ্যুয়ালিটি ইফেক্টও বেড়ে যায় যা পড়াকে মনে রাখতে সহায়তা করে।

লিখে লিখে বা ছবি এঁকে পড়ার অভ্যাস করা
কোন জিনিস পড়ার সাথে সাথে লিখলে বা ছবি আঁকলে পড়ার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। কারন নিউরো সায়েন্সের মতে, কিছু লিখলে বা ছবি আঁকলে ব্রেইনের অধিকাংশ জায়গা উদ্দীপিত হয় এবং ছবি বা লেখাটিকে স্থায়ী মেমরিতে রূপান্তরিত করে ফেলে। ফলে পড়াটি মস্তিষ্কতে দীর্ঘস্থায়ী হয়। 

যা পড়েছি তা অন্যকে শেখানো
পড়া মনে রাখার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই এ পদ্ধতিটি বেশ জনপ্রিয়। নিজে যা পড়েছি বা জেনেছি তা অন্যকে শেখানোর মাধ্যমে মস্তিষ্কে আরো ভালোভাবে গেঁথে যায়। তাছাড়া অন্যকে শেখানোর ফলে নিজের দক্ষতা প্রকাশ পায় এবং পড়াটি ভালভাবে আয়ত্ত হয়েছে কিনা তাও বুঝা যায়।

এই বিষয়গুলো ভাল ভাবে করতে পারলে পড়া মনে রাখতে আশাকরি কোন সমস্যা হবে না। আর একটা কথা- নিজের ইচ্ছা থাকতে হবে, কথায় আছে - " ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় " তাই যেকোন কিছু শিখতে হলে নিজের ইচ্ছাটাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
পড়া মনে রাখার সহজ কিছু কৌশল
Item Reviewed: পড়া মনে রাখার সহজ কিছু কৌশল 9 out of 10 based on 10 ratings. 9 user reviews.

Post a Comment

Dear readers, after reading the Content please ask for advice and to provide constructive feedback Please Write Relevant Comment with Polite Language.Your comments inspired me to continue blogging. Your opinion much more valuable to me. Thank you.

Powered by Blogger.